আরেকটি বিশ্বকাপ সামনে রেখে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা। তবে আসরের আগে দেশটির ঘরোয়া ফুটবল ও প্রশাসনিক অস্থিরতা দলটির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া বর্তমানে নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর যিনি দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন, এখন সেই একই ব্যক্তিকে ঘিরে সমালোচনা ও অসন্তোষ বাড়ছে। এমনকি তার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলছে বলেও আলোচনা চলছে।
আগামী জুন-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বসতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। তার আগে আর্জেন্টিনার ফুটবল প্রশাসন একাধিক অভিযোগ ও তদন্তের মুখে রয়েছে। তাপিয়ার বিরুদ্ধে ঘরোয়া লিগে কাঠামোগত পরিবর্তন এবং ম্যাচ আয়োজন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনা সরকারের সঙ্গে তার মতবিরোধও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের সঙ্গে ফুটবল ক্লাবগুলোর বেসরকারিকরণ ইস্যুতে মতপার্থক্যও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। এএফএ দীর্ঘদিন ধরে এই নীতির বিরোধিতা করে আসছে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আর্জেন্টিনা যে ম্যাচগুলো খেলছে, সেগুলো নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। ইউরোপের শক্তিশালী প্রতিপক্ষের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজন করায় প্রস্তুতির মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইন্দোনেশিয়া, অ্যাঙ্গোলা, জাম্বিয়া, মৌরিতানিয়া ও পুয়ের্তো রিকোর মতো দলের বিপক্ষে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল মহলে আলোচনা চলছে।
এছাড়া সামনে হন্ডুরাস ও আইসল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে ম্যাচ থাকলেও তারা বিশ্বকাপে জায়গা পায়নি। ফলে শক্ত প্রতিপক্ষের অভাবে প্রস্তুতি কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রশাসনিক অস্থিরতা এবং প্রস্তুতিগত দুর্বলতা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ফুটবল ইতিহাসে এমন উদাহরণও রয়েছে যেখানে ঘরোয়া সংকটের মধ্যেও দল সাফল্য পেয়েছে।
এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়ার বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগে আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে শাস্তির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে সংগঠনটি এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা প্রশাসনিক বিতর্ক থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছেন। দলের মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল জানিয়েছেন, তারা শুধুই ফুটবলে মনোযোগ দিতে চান এবং বাইরের বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে আগ্রহী নন।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গে এএফএ প্রধানের সম্পর্ক আগের মতো দেখা যাচ্ছে না বলেও বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেননি, তবে দলের ভেতরের দূরত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে।
সব মিলিয়ে মাঠের বাইরের অস্থিরতার মধ্যেই আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার কঠিন মিশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রতি / এডি / শাআ